জ্বালানি সংকটে পাম্প ফাঁকা, খোলা বাজারে দৌরাত্ম্য—দেশজুড়ে ভোগান্তি চরমে
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের মধ্যে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল না মিললেও খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি। সংকটের সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও চলছে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি, আর এসব ঘটনায় জনতার হাতে আটকও হচ্ছেন অনেকেই।
অতিরিক্ত চাহিদার কারণে বেশিরভাগ পাম্পেই অল্প সময়ের মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক ফিলিং স্টেশনে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাম্পে তেল না পেলেও আশেপাশের খোলা বাজারে বাড়তি দামে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে জ্বালানি, যা সংকটকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
ঠাকুরগাঁও-এ অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকলেও খোলা বাজারে তেল বিক্রি চলছে। নীলফামারী-তেও সংকটের মধ্যেই অবৈধ মজুতের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন পাম্পের সামনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা গেলেও, ড্রামভর্তি করে তেল সংগ্রহ করছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।
জামালপুর-এর কালিবাড়ী বাজারে মধ্যরাতে ৩ হাজার লিটার পেট্রোল কালোবাজারে বিক্রির সময় ৭ জনকে আটক করে স্থানীয় জনতা। রাজশাহী-তে পরিস্থিতি সামাল দিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তা।
সিলেট ও সুনামগঞ্জ-এ কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে চালু করা হয়েছে রেশনিং পদ্ধতি। এ বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াসাদ আজিম আদনান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর উচিত বাস্তবসম্মত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে সরকারি বিপণন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে, মজুত ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জ-এর চারটি ডিপো থেকে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংকটের প্রভাব পড়েছে নোয়াখালী, রংপুর, সাতক্ষীরা, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায়। নেত্রকোণা-য় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
এদিকে খাগড়াছড়ি-তে জ্বালানি সংকটে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নয়, ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকরাও। ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরসাইকেলে আসা অনেকেই জ্বালানি না পেয়ে সাজেক ভ্রমণ বাতিল করে ফিরে যাচ্ছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জনজীবনে আরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
