মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সেই প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা ও মানুষের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতার মধ্যে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসছে বাংলাদেশে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাবে।
পাম্পিং শুরু হয়েছে সোমবার
বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ জানিয়েছেন, সোমবার দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়েছে।
তার ভাষায়,
“প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসতে প্রায় ৪৪ ঘণ্টা সময় লাগে। আমাদের এখানে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১১৩ মেট্রিক টন করে তেল পাম্পিং হয়। সেই হিসাবে আগামীকাল সন্ধ্যার দিকে সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা।”
এই ডিজেল সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাবে, যা উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী পাইপলাইন
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনটি ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ।
২০২৩ সালের মার্চে এই আন্তঃদেশীয় পাইপলাইনের উদ্বোধন করা হয়। পাইপলাইনটির মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে।
এই পাইপলাইন চালুর আগে ২০১৬ সাল থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল আনা হত। পাইপলাইন চালু হওয়ায় এখন সরাসরি পার্বতীপুর ডিপোতে জ্বালানি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে, ফলে পরিবহন সময় ও খরচ দুটোই কমেছে।
আরও ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের প্রস্তাব
সম্প্রতি সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মার বৈঠকে আগামী চার মাসে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সরকার আশা করছে, এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে।
আতঙ্কে বেড়েছে তেলের চাহিদা
বাংলাদেশে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা সাধারণত ১২ থেকে ১৩ হাজার মেট্রিক টনের মধ্যে থাকে, যা দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় অনেকেই অতিরিক্ত তেল কিনতে শুরু করেছেন। ফলে কিছু সময়ের জন্য দৈনিক চাহিদা ২০ হাজার মেট্রিক টনেও পৌঁছে যায়।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে কোন গাড়িতে কতটুকু তেল বিক্রি করা যাবে।
বর্তমানে মজুত পরিস্থিতি
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের কাছে এক লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুত রয়েছে। এই মজুত দিয়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
সরকারের আশা, এর মধ্যেই নতুন তেলের চালান দেশে পৌঁছে যাবে এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
