২৮ ফেব্রুয়ারি শহিদ হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei। তার মৃত্যুর ঠিক ৯ দিনের মাথায় গত রোববার তার ছেলে Mojtaba Khamenei-কে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার ২ দিন পেরিয়ে গেলেও জনসম্মুখে তার কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি। নেই কোনো ভাষণ, সংবাদ সম্মেলন কিংবা জনগণের উদ্দেশে বার্তা। এমনকি তার কার্যালয় থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানে চলমান যুদ্ধের শুরুতেই বড় ধাক্কা লাগে দেশটির নেতৃত্বে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei। তার মৃত্যুর মাত্র ৯ দিন পর, গত রোববার নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয় তার ছেলে Mojtaba Khamenei-কে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো নতুন নেতাকে পরিচয় করাতে মূলত তার পুরোনো আর্কাইভ ছবি ব্যবহার করছে। কোথাও কোথাও আবার এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে তাকে তুলে ধরা হচ্ছে। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—মুজতাবা খামেনি আসলে কোথায়?
তার অনুপস্থিতি ঘিরে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। কেউ বলছেন, তিনি হয়তো নিরাপত্তার কারণে কোনো বাংকারে অবস্থান করছেন। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, তিনি আদৌ জীবিত আছেন কি না।
এই জল্পনার মধ্যেই সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায়, মুজতাবা খামেনি জীবিত আছেন, তবে তিনি আহত। প্রতিবেদনে তাকে ‘রমজান যুদ্ধের আহত সৈনিক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কবে, কোথায় এবং কীভাবে তিনি আহত হয়েছেন—এসব বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি কোনো ভিডিও ফুটেজও দেখানো হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলাতেই তিনি আহত হন। ওই হামলায় শুধু Ali Khamenei-ই নন, তার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য—স্ত্রী, জামাতা, পুত্রবধূ এবং এক নাতিও নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
মুজতাবার সামনে না আসার পেছনে আরেকটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর কড়া অবস্থান। মুজতাবাকে নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচনের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়ে বলেন, “খামেনির ছেলেকে আমার পছন্দ নয়।” এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ ছাড়া নির্বাচিত কোনো নেতা বেশিদিন টিকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চলতে থাকায় নতুন নেতার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতীতে বিভিন্ন দেশের নেতাদের টার্গেট করে হত্যার নজির থাকায় এই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
তবে নতুন নেতার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে যুদ্ধের মনোভাব খুব একটা বদলায়নি। খামেনির মৃত্যুর নিন্দা জানিয়ে ইতোমধ্যে বিবৃতি দিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট Mohammad Khatami সহ অনেক রাজনৈতিক নেতা।
বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতার পদটি যে খালি নেই—এই বার্তাটিই আপাতত ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেটিই চলমান যুদ্ধের গতি বজায় রাখতে রাজনৈতিকভাবে বড় ভূমিকা রাখছে।
