বাংলাদেশ কি সত্যিই ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়েছিল—নাকি আমরা এক প্রভাব থেকে আরেক প্রভাবের মধ্যে চলে গিয়েছিলাম? অনেকেই এখন বলছে, আমাদের প্রকৃত স্বাধীনতার উপলব্ধি এসেছে ৫ আগস্টের পর—যাকে কেউ কেউ “স্বাধীনতা ২.০” বলছে।
কিন্তু বাস্তবতা কি সেই দাবিকে সমর্থন করে?
আজ আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে জরুরি জ্বালানি তেল কিনতেও অন্য দেশের অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। অথচ অতীতে—যখন আমাদের ‘পরাধীন’ বলা হয়—তখনও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ছিল “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।” সে সময় সরকার ভারত, চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করতে পারত তুলনামূলক স্বাধীনভাবে।
এখন প্রশ্ন হলো—স্বাধীনতা যদি সত্যিই বেড়ে থাকে, তাহলে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেন কমে যাচ্ছে? আমরা কি কিনবো, কি বিক্রি করবো—এসব কি এখন অন্য কেউ নির্ধারণ করছে?
বর্তমান প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনজি—তাদের নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা হয় প্রায়ই। বলা হচ্ছে, তারা আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যাচাই-বাছাই করছে না। “ভারতপন্থী” থেকে “বাংলাদেশপন্থী” হওয়ার যে স্লোগান দেওয়া হয়েছিল, সেটার বাস্তব ভিত্তি কতটা ছিল—সেটা অনেকেই খতিয়ে দেখেনি।
একটি দেশ কি বারবার “বিক্রি” হয়ে যেতে পারে? আর যদি হয়ে থাকে—তাহলে কেন বারবার একই গল্প শুনতে হয়? কেন মানুষ একই ধরনের অভিযোগে নতুন নতুন মুখকে বিশ্বাস করে?
বাংলাদেশের ইতিহাসে ভুল হয়েছে—এটা সত্যি। কিন্তু একজন প্রতারকের কাছে প্রতারিত হওয়া আর একসঙ্গে অনেকের কাছে বারবার প্রতারিত হওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। তবুও সমাজের অনেকেই বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রেখে যাচ্ছে, প্রশ্ন না করেই।
এদিকে বাস্তব চিত্রও উদ্বেগজনক—স্বাস্থ্যখাতে টিকার সংকট, জ্বালানির সমস্যা, এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধতা—এসব বিষয় সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে। কিন্তু এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমাজে তেমন জোরালো প্রতিবাদ বা আলোচনা দেখা যায় না।
তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়—সমস্যা কি শুধু নেতৃত্বে, নাকি আমাদের সামাজিক সচেতনতার ঘাটতিও এর জন্য দায়ী?
ইতিহাস হয়তো একদিন এসব প্রশ্নের উত্তর দেবে। কিন্তু তার আগে আমাদের নিজেদেরই সচেতন হতে হবে—তথ্য যাচাই করতে হবে, আবেগের চেয়ে যুক্তিকে প্রাধান্য দিতে হবে, এবং সত্যিকারের স্বাধীনতার অর্থ কী—তা নতুন করে ভাবতে হবে।
