সোনা – বৈশ্বিক অস্থিরতায় সোনার বাজারে ধস, একদিনে ৫% এর বেশি দরপতন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে সোনার দামে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই মূল্যবান ধাতুর প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ায় সোমবার একদিনেই ৫ শতাংশের বেশি দাম কমেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম ২৩২ ডলার বা প্রায় ৪.৯২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,২৬১.৫০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসেও বড় পতন দেখা গেছে—৬.৮৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাম দাঁড়িয়েছে ৪,২৯২ ডলার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। এই অবস্থায় বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর পরিবর্তে তা স্থিতিশীল রাখার দিকে ঝুঁকছে। ফলে বন্ডসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে, আর সোনার প্রতি বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে।
এছাড়া শেয়ারবাজারে অস্থিরতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী সোনা বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করছেন, যা বাজারে সোনার দামের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ডলার ছাড়ালেও বর্তমানে সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা থেমে গেছে। অনেক বিনিয়োগকারী এখন লাভ তুলে নিতে সোনা বিক্রি করছেন, ফলে দাম আরও নিচের দিকে নেমে আসছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে আউন্সপ্রতি ৪৯৮ ডলার দরপতন হয়েছে, যা ১৯৮৩ সালের পর সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট। গত ১৯ মার্চ একদিনেই দুই দফায় কমানো হয় সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)-এর নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ২,৪৬,৯২৭ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ২,৩৫,৬৭১ টাকায়, ১৮ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২,০২,০২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা পাওয়া যাচ্ছে প্রতি ভরি ১,৬৪,৫২১ টাকায়।
বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশীয় বাজারেও আরও দামের সমন্বয় হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
