কমলগঞ্জে দুর্বৃত্তদের আগুনে কৃষকের ঘর-গোলা পুড়ে ছাই, গর্ভবতী গাভীসহ ব্যাপক ক্ষতি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে একটি কৃষক পরিবারের ঘর, ধানের গোলা ও গরুর ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় একটি গর্ভবতী গাভী মারা গেছে এবং আরও কয়েকটি গরু দগ্ধ হয়েছে। আগুনে ধান, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোররাত প্রায় ৫টার দিকে উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের রায়নগর গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রুবেল দাস জানান, আগের রাত প্রায় ১০টার দিকে তার চাচাতো ভাইয়ের খড়ের পালায় কে বা কারা আগুন দেয়। পরে ভোররাতে দুর্বৃত্তরা তার বাড়ির খড়ের ফেইন, গরুর ঘর ও ধানের গোলায় আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘরের ভেতরে থাকা ধান, আসবাবপত্র ও গবাদিপশু রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
আগুনে প্রায় ৫০ মন ধান, পানির মোটর ট্যাংকি ও ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এছাড়া প্রায় ৮ মাসের গর্ভবতী একটি গাভী আগুনে মারা যায় এবং আরও চারটি গরু আংশিকভাবে দগ্ধ হয়।
গবাদিপশু বাঁচাতে গিয়ে রুবেল দাসের মা অর্চনা দাস (৬০) গুরুতরভাবে আহত হন। এ ছাড়া সীমা দাস (৩৫) ও রুপক দাস (৪০) আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
রুবেল দাস বলেন, “ঘর ও ধান পুড়ে যাওয়ার কষ্টের চেয়েও গরুগুলো আগুনে পুড়ে যাওয়ার কষ্ট বেশি। আমার মা গরুগুলো বাঁচাতে গিয়ে হাত পুড়িয়ে ফেলেছেন। একটি জার্সি গরুর মূল্যই ছিল প্রায় সোয়া লাখ টাকা। সব মিলিয়ে আমার প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
খবর পেয়ে কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি দল স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওমর ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তা দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত থাকুক না কেন, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
