জুতার ক্লু ধরে কুলাউড়ায় রিপন হত্যার রহস্য উদঘাটন, দর্শক সেজে ঘটনাস্থলেই ছিলো ঘাতক সাকিব।
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় সংঘটিত হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা একটি জুতার সূত্র ধরে একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পুলিশ যখন ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করতে যায় তখন হত্যাকারীও সেখানে সাধারণ মানুষের ভিড়ে দর্শক সেজে উপস্থিত ছিলো।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের চকসালন এলাকা থেকে রিপন মিয়া (২৯) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরকিয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমল হোসেন সময় কুলাউড়াকে জানান, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের হানু মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া গত সোমবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার মুঠোফোনও বন্ধ ছিলো।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করছিলেন। একপর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে টিলাগাঁও ইউনিয়নের চকসালন এলাকায় স্থানীয়রা একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি জুতা উদ্ধার করা হয়। সেই জুতার সূত্র ধরে স্থানীয় একটি বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সাকিব আহমদ (২৫) নামের এক যুবককে শনাক্ত করা হয়। পরে বুধবার (১১ মার্চ) ভোরে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর এলাকায় সাকিবের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব জানান, একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় রিপন মিয়ার সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিলো এবং সেই সুবাদে রিপনের বাড়িতে তার যাতায়াত ছিলো। একপর্যায়ে রিপন মিয়ার স্ত্রীর সঙ্গে তার পরকিয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বিষয়টি জানাজানি হলে রিপন ও সাকিবের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে রিপনকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে সাকিব। পরে ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমল হোসেন আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহ এড়াতে সাকিব ঘটনাস্থলে ভিড়ের মধ্যে সাধারণ দর্শক সেজে উপস্থিত ছিলো। গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
