যৌত পরিবারে এটা সবচেয়ে কমন প্রশ্ন! পারিবারিক ব্যায় বা খরচে কে কত টাকা দিবে? ধরুন কোন পরিবারে ৫ ভাই এবং তারা ইনকাম করছেন এবং তাদের মাসে মোট পারিবারিক খরচ ৫০ হাজার টাকা। এখন কোন ভাই কত টাকা দিবে?
আল্লাহ কোন সময় দিনকে লম্বা করে দিয়ে রাতকে ছোট করে দেন। আবার কোন সময় রাতকে লম্বা করে দিয়ে দিনকে ছোট করে দেন। প্রকৃতির সমকিছু তিনি সমান করে তৈরি করেন নি। তিনি করেছেন ভারসাম্যপূর্ণ।
ইনকাম অনুযায়ী ভাগ করা (সবচেয়ে ন্যায্য)
যদি কারও আয় বেশি আর কারও কম হয়, তাহলে আয়ের অনুপাতে খরচ দেওয়া ভালো।
উদাহরণ:
- ভাই ১ আয়: ৫০,০০০
- ভাই ২ আয়: ৪০,০০০
- ভাই ৩ আয়: ৩০,০০০
- ভাই ৪ আয়: ২০,০০০
- ভাই ৫ আয়: ১০,০০০
এখানে সবাই সমান দিলে (ধরা যাক ১০,০০০ করে) — ছোট আয়ের ভাইয়ের উপর বেশি চাপ পড়ে।
তাই পারসেন্টেজ অনুযায়ী দিলে ন্যায্য হয়। আর এটাই সুবিচার। সমান করে দেয়ার বিধান সুবিচার হয় না। এটা কোন একজনের উপর (যার ইনকাম কম) জুলুম করা হয়ে যাবে।
পারিবারিক খরচ আলাদা করা
সাধারণত পরিবারের খরচ ভাগ করা যায়ঃ
- বাসা/ভাড়া (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
- খাবার
- বাবা-মায়ের খরচ
- বিদ্যুৎ/গ্যাস
- জরুরি ফান্ড
এগুলোতে সবাই অংশ নিলে ভালো। এসবের বাইরে ভাইদের ব্যক্তিগত খরচ থাকতে পারে। সেটা পারিবারিক খরচ হিসাবে দেখানো যাবে না।
যার দায়িত্ব বেশি তার অবদান বেশি হতে পারে
যদি কোনো ভাই বাবা-মায়ের সাথে থাকে বা সংসার চালায়, তাহলে সে স্বাভাবিকভাবেই একটু বেশি দায়িত্ব নিতে পারে।
ইসলামী ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ
ইসলামে বাধ্যতামূলকভাবে ভাইদের সমান টাকা দেওয়া লাগবে—এমন নিয়ম নেই।
কিন্তু মা-বাবার খরচ বহন করা সন্তানদের দায়িত্ব।
✅ সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি:
- সবাই বসে আলোচনা করা
- ইনকাম অনুযায়ী অবদান ঠিক করা
- কারো উপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া
আমরা যদি আমাদের হাতের দিকে তাকাই তাহলে বুঝতে পারব। আমাদের হাতে আঙ্গুল ৫টা। এই ৫টি আঙ্গুলে আল্লাহ সমান শক্তি দেন নি। আবার সমান উচ্চতা ও আকৃতি দেন নি। তিনি সেটা করেছেন ভারসাম্যপূর্ণ্য। যখন কোন কিছু মুস্টিবদ্ধ করি তখন সব আঙ্গুল সমান শক্তিও যোগাতে পারে না। কিন্তু শক্তির পূর্ণতা পায় যখন সব আঙ্গুল এক সাথে অংশগ্রহন করে। আর এটাই ন্যায় বিচার। দুই হাতের সাথে যদি তুলনা করেন তবে তারা একই কাজ করে না। তাদের কাজগুলো আলাদাভবে ভাগ করা। আবার কিছু কাজে দুই হাত সমান অংশগ্রহণ করে। আর এভাবেই আল্লাহ ভারসাম্যপূর্ণ করেছেন। একজনের ইনকম কম হবে একজনের বেশি হবে কিন্তু পরিবারের খরচের ক্ষেত্রে যার ইনকাম বেশি সে সে অনুপাতে ব্যায় করবে। যে ইনকাম বেশি করছে ভবিষ্যতে তার ইনকাম কমে যেতেও পারে। তখন অন্যরা ভারসাম্যপূর্ণ করবে।
আরও পড়ুন —
চাকরীজীবি মহিলা পরিবারে খরচের একটা ভাগ দিলে , পারিবারিক কাজে তাকে অংশ নিতে বলা যাবে কি না?
মোট কথা – পরিবারের সব সদস্য একে অন্যকে নিজ পরিবারের সদস্য হিসাবে বিবেচনা করতে হবে। একজনের রুজি বেশী কিন্তু তার নিজের পরিবারের (স্ত্রী সন্তান) সমস্য সংখ্যা কম তাই সে কম ব্যায় করবে , এটা সুবিচার হয় না। সুবিচার করতে হবে আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন তার ভিত্তিতে ব্যায় করার মাধ্যমে।

2 thoughts on “যৌত পরিবারে খরচের ন্যায্যতা সমানভাবে করতে হবে না কি আয়ের অনুপাতে?”